Makhla Kashibati Sarbojonin Durgotsab Commitee(Org By Makhla Milan Sangha)
Makhla, Hooghly
"আমাদের পুজোর ভোগের গল্পঃ
ষষ্ঠীর বিকেলে রমার মা মণ্ডপে এসে কমলাকে জানালেন, সপ্তমীর ভোগের রান্না সকাল সাতটার মধ্যে শেষ করতে হবে। খবর পেয়েই কমলার কাকিমা গঙ্গাস্নান সেরে সন্ধ্যা ছটায় শিলনোড়ায় মশলা বাটতে বসে গেলেন। পরদিন ভোরে রত্না, গোপালের মা ও আরও কয়েকজন সেই মশলা দিয়ে উনুন জ্বালিয়ে তিন-চার পদ ভোগ রান্না করে ফেললেন। পরদিনের ভোগের জন্য আবার নতুন করে মশলা বাটার প্রস্তুতি শুরু হলো।
এইভাবেই ছন্দা, গৌরী, শ্যামা আরো সবাই মিলে অষ্টমীর আর নবমীর পুজোর ভোগও রান্না করে নিয়েছে। এই তিনদিন ধরে ঠাকুর মণ্ডপের দালানে পাড়ার ছোটো বড় সবাই মিলে একসাথে বসে দুপুরবেলার পুজোর ভোগ খেয়েছে। পুরুষদের খাওয়া দাওয়া শেষ হবার পরে মেয়ে আর মায়েদের দল তাদের খাওয়াও একসাথেই করেছে।
সময়ের বদলের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তীকালে প্রতিবছর পাড়ার মেয়েরা এই তিনদিনের ভোগের রান্না করে চলেছে। কাকিমাদের বাটা মশলার বদলে ব্যবহার করা হয়েছে সানরাইজ গুঁড়ো মশলা যার স্বাদ আগের ঐ বাটা মশলার মতই রয়ে গেছে। তবে এখন আর একসাথে বসে খাবার সময় বা জায়গা মানুষের কাছে নেই। পুজো কমিটির লোকেরাই অষ্টমী বা নবমীর দিনের পুজোর ভোগ পাড়ার প্রতিটি মানুষের বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে আসে। পথচলতি প্রায় শ'খানেক মানুষ এই ভোগ গ্রহণ করে থাকে। আমরা প্রতিবছর একই সানরাইজ মশলার রান্নার ভোগ পরিবেশন করে থাকি।"